...

পেটে খাওয়ানো জাদু আছে, কিন্তু কিছুতেই বের হচ্ছে না- এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়।

পেটে খাওয়ানো জাদু আছে, কিন্তু কিছুতেই বের হচ্ছে না- এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়। অনেকেই বলেন, বারবার রুকইয়াহ করছেন, বিভিন্ন হারবাল বা প্রাকৃতিক উপায়ে চেষ্টা করছেন, রুকইয়াহ পানি পান করছেন, এমনকি বমি করানোর চেষ্টা পর্যন্ত করেছেন-তবুও কিছু বের হচ্ছে না। তখন স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে, আসলে কি সমস্যা? বাস্তবতা হলো, সব খাওয়ানো জাদু একরকম হয় না। কিছু জাদু সহজে বের হয়ে আসে, আবার কিছু জাদু এমনভাবে সুরক্ষিত বা মোহর দেওয়া থাকে, যাকে ভাঙা ছাড়া তা বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এই ধরনের জাদুকে অনেক রাক্বি মুহাসসান বা শক্তভাবে আবদ্ধ জাদু হিসেবে চিহ্নিত করেন। এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝতে হবে-শুধু বমি করানোই সমাধান না। আপনি যতই ইস্তেগফার করুন, নামাজ পড়ুন, কুরআন তিলাওয়াত করুন, সাদাকা দিন- এসব অবশ্যই বরকতময় এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে জাদুর ভেতরে এমন বন্ধন, গিঁট, তালা বা স্তর তৈরি করা হয়, যেগুলো না ভাঙলে জাদু বের হওয়ার পথই তৈরি হয় না। এই অবস্থায় করণীয় কী? এক্ষেত্রে মূল ফোকাস হতে হবে ভেতরের দুর্গ, বন্ধন, গিঁট, তালা ও শিকল ভেঙে ফেলা। এজন্য এমন আয়াত ও রুকইয়াহ পড়া প্রয়োজন, যেখানে আল্লাহ তাআলা দুর্গ, প্রাচীর, বাধা বা ভেঙে দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। যেমন সূরা কাহফের কিছু অংশ, যেখানে প্রাচীর ও বাঁধের প্রসঙ্গ এসেছে-এসব আয়াতের রুকইয়াহ এই ধরনের কেসে বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে, ইনশাআল্লাহ।

এর পাশাপাশি, গিঁট খোলা, বন্ধন ছিন্ন করা, শিকল ভাঙা – এই থিমের রুকইয়াহগুলো নিয়মিত পড়া দরকার। যখন এই অভ্যন্তরীণ বাধাগুলো ভেঙে যাবে, তখন অনেক সময় হঠাৎ করেই বমির মাধ্যমে, ডায়রিয়ার মাধ্যমে, বা অন্য কোনো উপায়ে সেই জাদু বের হতে শুরু করে। তবে একটা বিষয় সবসময় মাথায় রাখতে হবে-প্রতিটি কেস একরকম না।

কারো দ্রুত ফল আসে, আবার কারো ক্ষেত্রে সময় লাগে। তাই হতাশ না হয়ে, সঠিক পদ্ধতিতে ধারাবাহিকভাবে রুকইয়াহ চালিয়ে যাওয়া এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা-এটাই সবচেয়ে বড় শক্তি। আল্লাহ তাআলা সকলকে শিফা দান করুন এবং আমাদেরকে সব ধরনের জাদু ও অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন।

সুস্থতার পথে অন্যকে সহায়তা করতে সদাকায়ে জারিয়ার নিয়তে পোস্টটি শেয়ার করুন।

সাম্প্রতিক পোস্ট