বদ নজর সত্য। বদনজর থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।
আমাদের জীবনে প্রায়ই এমন হয়। সব ঠিকঠাক চলে, হঠাৎ করেই যেন সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়।
শরীর ভালো ছিল, হঠাৎ অসুস্থতা। পরিবারে শান্তি ছিল, হঠাৎ অশান্তি। সন্তান হাসিখুশি ছিল, হঠাৎ নিস্তেজ। অতঃপর, আমরা কারণ খুঁজি, কিন্তু কিছুই পাই না। তখন মনে প্রশ্ন জাগে—কেউ কি চোখ লাগিয়েছে?
এই প্রশ্নের উত্তর আছে। উত্তর হল, বদনজর। বদনজরের কারণেই প্রায়শই এমনটা হয়ে থাকে।
এটা সব সময় ইচ্ছাকৃত হয় না। কখনো ভালোবাসা থেকেও হতে পারে। কখনো প্রশংসা থেকেও হতে পারে।
বদ নজর হালকা কোনো বিষয় নয়; এটা বাস্তব, প্রভাবশালী এবং খুবই ক্ষতিকর। বদনজরে প্রভাব খুবই মারাত্মক। অকারণ শারীরিক দুর্বলতা, হঠাৎ অসুস্থতা, শিশুদের কান্না, ভয়, ঘুমের সমস্যা, ব্যবসায় লস, সংসারে অকারণ অশান্তি, মন খারাপ, দুশ্চিন্তা, অস্বস্তি—এগুলো অনেক সময় বদনজরের প্রভাবে হয়ে থাকে।
আবার সব সময় এগুলো বদনজরের প্রভাবে হবে, এমনটাও না। তবে সব কারণ বাদ দেওয়ার পরও যদি ব্যাখ্যা না মেলে, তখন বদ নজরের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত।
বদ নজর থেকে বাঁচার সহজ কিছু উপায়—
১. আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হলো—আল্লাহর হেফাজত।
২. সকাল-সন্ধ্যার দোয়া ও যিকিরে অভ্যস্ত হন। বিশেষ করে, আয়াতুল কুরসি, সূরা ফালাক, সূরা নাস
সূরা ইখলাস। নবী ﷺ নিজে ও তাঁর পরিবারকে এসব পড়ে ফুঁ দিতে বলতেন।
৩. নিজে ভালো কিছু দেখলে ‘মাশাআল্লাহ’ বলুন।
আর অন্যকে শেখান—সুন্দর জিনিস দেখলে যেন মাশাআল্লাহ বলে।
৪. অযথা সবকিছু প্রকাশ করবেন না। নিজের সুখ, সন্তান, অর্জন—সবকিছু সবার সামনে তুলে ধরা জরুরি নয়। বিশেষ করে, ফেসবুকে এগুলো প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।