...

ইবাদাতে অস্থিরতা; গভীর কিছু কথা

আমরা নামাজে মজা পাই না। কখন শেষ হবে এরজন্য অস্থির হয়ে যাই৷ এর থেকে তৈরি হয় ইবাদাতে অনীহা। সমস্যাগুলো এক দুজনার না। হাজার হাজার মানুষ এমন সমস্যায় ভুগছেন।

:

এই সমস্যার বড় কারণ গোনাহ। আমরা খুব সহজে গোনাহ করে ফেলি। কারণ গোনাহের মাধ্যমগুলো এখন এতই সহজলভ্য, গোনাহ করতে করতে গোনাহকে গোনাহ মনে হয় না।

:

আমাদের মানসিক অনুভূতি শক্তি নষ্ট হয়ে গেলেও রুহের অনুভূতি নষ্ট হয় না। সালাফগণ বলেন, মানুষের শরীর ও মনের চেয়ে বেশি অনুভূতি প্রবণ রূহ। আমাদের দেহ ও মনের খারাপ চাহিদার দরুন গোনাহ হয়, শয়তানের ওয়াসওয়াসা বা অভ্যস্ততার কারণে; একটা সময় দেখা যায় গোনাহ হচ্ছে সে অনুভূতি-ই থাকে না।

:

রূহ অনুভূতিপ্রবণ। এসব গোনাহ হওয়ায় খুব লজ্জিত হয়। সালাতে ও দোয়ায় মালিকের সামনে দাঁড়াতে লজ্জা পায়। ঠিক যেমন, চুরি করে ধরা পরার পর কর্মচারী তার মালিককে দেখে কাচুমাচু করে মুখবয়ব লুকায় এবং নিচের দিক তাকিয়ে থাকে। অস্থির হয়ে যায় কখন এখান থেকে সরে যাবে। একই পরিস্থিতি হয় রূহের।

:

আমরা সেটা বুঝতে পারি না। কারণ আমাদের শরীর ও মন গোনাহ করতে করতে সেটার অনুভূতিই হারিয়ে ফেলেছে। এই অনুভূতি শক্তি তৈরি করতে এবং গোনাহ থেকে মাফ পেতে বেশি বেশি ইস্তিগফার করতে হয়। দৈনিক ১২ শ বার সর্বনিম্ন সংখ্যা বলেন সালাফগণ, যা তাদাব্বুরের সাথে পাঠ করে ২০ মিনিট লাগবে। তবে মনে রাখতে হবে, নির্দিষ্ট সংখ্যা দীর্ঘ সময় ধারাবাহিক করতে হবে। অনির্দিষ্ট সংখ্যায় সারাদিন করার চেয়ে ২০ মিনিট নির্দিষ্ট পরিমাণ দীর্ঘ সময় করা উত্তম, এটা সালাফগণের অভিজ্ঞতা।

:

কিভাবে বুঝব আমার তাওবা কবুল হচ্ছে? এরজন্য সহজ কিছু বিষয়, ইবাদাতে মনযোগ বাড়বে। অল্প গোনাহকে অনেক বড় মনে হবে। কখনো মনে হবে না আমার ইস্তিগফার বন্ধ করা উচিত, পরিপূর্ণ পাপমুক্ত হয়ে গিয়েছি। বরং রূহের সাথে মনে গুড এনার্জি বুস্ট হলে, ছোট গোনাহকেও অনেক বড় মনে হবে এবং ইস্তিগফার পরিমাণ দিন দিন বাড়তে থাকবে।

:

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে বুঝার ও আমলের তাউফিক দান করুন। আমিন। 

See less

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *